শলোমনের হিতোপদেশ: অর্থ
টাকা সবারই দরকার, আর বিল মেটানোর পর হাতে আরও কিছু বাড়তি থাকলে বেশিরভাগ মানুষেরই সুবিধা হত! রাজা শলোমন ছিলেন অবিশ্বাস্য রকমের ধনী, আর আর্থিক বিষয়ে প্রজ্ঞাবান হওয়ার জন্য তিনি নিজের সন্তানদের ও প্রজাদের ঈশ্বর-অনুপ্রাণিত উপদেশ দিয়েছেন। সাফল্যের জন্য তাঁর কিছু নিয়ম সুপরিচিত, কিন্তু কিছু নিয়ম কোনো ব্যবসায়-শিক্ষার প্রতিষ্ঠানেই শেখানো হয় না। আপনার পরিশ্রম ও আয়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে চাইলে পড়তে থাকুন।
হিতোপদেশ 10:4
“যে শিথিল হস্তে কর্ম করে, সে দরিদ্র হয়; কিন্তু পরিশ্রমীদের হস্ত ধনবান করে।”
টাকা সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করার আগে আপনাকে তা উপার্জন করতে হবে। আর্থিক সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে শলোমন পরিশ্রমের উপরেই জোর দিয়েছেন। অলস মানুষ দরিদ্র হবেই, আর বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষই তুলনামূলকভাবে অলস। কিন্তু পরিশ্রমী মানুষের খাটুনিই ধন এনে দেয়।
হিতোপদেশ 21:20
“জ্ঞানীর নিবাসে বহুমূল্য ধনকোষ ও তৈল আছে; কিন্তু হীনবুদ্ধি তাহা খাইয়া ফেলে।”
যে মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে, সমস্ত আয়ের কিছু অংশ সঞ্চয় করে এবং খরচে লাগাম টানে, তার সম্পত্তি গড়ে ওঠে। কিন্তু মূর্খ নিজের আয় অপ্রয়োজনীয় জিনিসে উড়িয়ে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারে না। তার সম্পত্তিও হবে না, জীবনে ভালো কিছুও জুটবে না।
হিতোপদেশ 11:24
“কেহ কেহ বিতরণ করিয়া আরও বৃদ্ধি পায়; কেহ কেহ বা ন্যায্য ব্যয় অস্বীকার করিয়া কেবল অভাবে পড়ে।”
উন্নতি করার একটি চমৎকার উপায় হল নিজের টাকা বিলিয়ে দেওয়া! সত্যিই তাই! ব্যবসায়-শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির এটা বোঝার মতো বুদ্ধি নেই, কিন্তু শলোমন তা জানতেন। সম্পদ আগলে রাখতে গিয়ে কৃপণের মতো হাত গুটিয়ে রাখলে আপনি হারাবেন; আর তা বিলিয়ে দিলে আপনি সমৃদ্ধ হবেন!
হিতোপদেশ 14:15
“যে অবোধ, সে সকল কথায় বিশ্বাস করে, কিন্তু সতর্ক লোক নিজ পাদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে।”
বার্নি ম্যাডফ অন্য মানুষের 50 বিলিয়ন ডলার নিয়ে সরে পড়েছিলেন। বিচার-বিবেচনা করে ভাবতে না শিখলে পরবর্তী বার্নি হয়তো আপনাকেই ঠকাবে। প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি সম্পর্কে শলোমন যত জানতেন, আর কোনো মানুষ তত জানত না; আর তিনি আপনাকে রক্ষা করার জন্য একটি সহজ নিয়ম দিয়ে গেছেন।
হিতোপদেশ 11:15
“যে অপরের জামিন হয়, সে নিশ্চয় ক্লেশ পায়; কিন্তু যে জামিনের কর্ম ঘৃণা করে, সে নিরাপদ।”
নিজের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কঠোর হলে আর্থিক ক্ষতি ও ঝুঁকির বেশিরভাগই এড়ানো যায়। ঝুঁকি মানে হল, অন্য কিছু এসে আপনার টাকা আপনার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু শলোমন যে জিনিসগুলিকে ঘৃণা করতে শেখান, সেগুলিকে ঘৃণা করলে আপনার সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে।
হিতোপদেশ 30:25
“পিপীলিকা শক্তিমান জাতি নয়, তবু গ্রীষ্মকালে স্ব স্ব খাদ্যের আয়োজন করে।”
টাকা সঞ্চয় করা কেবল একটি ভালো পরামর্শ বা আয়ের একটি সম্ভাব্য ব্যবহার নয়। এটি ঈশ্বরের একটি আজ্ঞা, আর এই শিক্ষা আপনাকে দেওয়ার জন্যই তিনি একটি ছোট্ট প্রাণী সৃষ্টি করেছেন—পিপীলিকা! তারা সারা গ্রীষ্মকাল কঠোর পরিশ্রম করে এবং শীতের জন্য প্রচুর খাদ্য জমিয়ে রাখে।
হিতোপদেশ 21:17
“যে আমোদ ভালোবাসে, তাহার দৈন্যদশা ঘটিবে; যে দ্রাক্ষারস ও তৈল ভালোবাসে, সে ধনবান হইবে না।”
আপনি কি অমিতব্যয়ী? তাহলে আপনার উন্নতি হতে পারে না। জীবনযাত্রার উঁচু খরচ আপনাকে কাবু করছে না, বরং উঁচু মানের জীবনযাপনের খরচই আপনাকে কাবু করছে। আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করা বন্ধ করুন। প্রজ্ঞাবান মানুষ যা আয় করে তার সবটা খরচ করে না, কিন্তু মূর্খরা তা-ই করে এবং দরিদ্র অবস্থায় মারা যায়।
হিতোপদেশ 3:9
“সদাপ্রভুর সম্মান করো তোমার ধনসম্পদ ও তোমার সমস্ত ফসলের অগ্রিমাংশ দিয়ে।”
আজ্ঞাপালন, উপাসনা, প্রার্থনা ও গানের মধ্য দিয়ে আপনি ঈশ্বরের সম্মান করতে পারেন। কিন্তু অগ্রিমাংশ দান করেও আপনি তা করতে পারেন (অন্য কোনো ধরনের দানে কাজ হবে না)। এইভাবে আপনি যদি তাঁকে প্রথম স্থান দেন, তবে আর্থিক আশীর্বাদের সারিতে তিনি আপনাকেই প্রথমে রাখবেন। পদটি পড়ুন।
হিতোপদেশ 12:11
“যে আপন জমি চাষ করে, সে যথেষ্ট আহার পায়; কিন্তু যে অসারদের পিছনে পিছনে দৌড়ায়, সে বুদ্ধিবিহীন।”
কঠোর পরিশ্রমে কাজ হয়! ব্যবসার সুযোগ নিয়ে গল্প করলে কাজ হয় না! এগুলিকে বলা হয় মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা সরাসরি বিক্রয়; এরা উত্তেজনায় ভরা সভার উপর নির্ভর করে, যাতে আপনি কোটিপতি হওয়ার আশায় চড়া দামের পণ্য কিনে ফেলেন।
হিতোপদেশ 14:4
“গরু না থাকিলে যাবপাত্র পরিষ্কার থাকে; কিন্তু বলদের বলে ধনের বাহুল্য হয়।”
টাকা কামাতে হলে টাকা খরচ করতে হয়। এ কথা আগে শুনে থাকলে জেনে রাখুন, তা এই হিতোপদেশ থেকেই নেওয়া। প্রজ্ঞাবান মানুষ নিজের সঞ্চয় আয়দায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করে, যাতে নিজের সামর্থ্য ও সময়কে কাজে লাগিয়ে অন্যদের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।