হিতোপদেশ 6:34
যেহেতু অন্তর্জ্বালা স্বামীর চণ্ডতা, প্রতিশোধের দিনে সে ক্ষমা করিবে না
ঈশ্বর মানুষদের চেনেন। তিনি তাদের মন এবং আবেগও জানেন। ঈশ্বর জানেন একজন ব্যভিচারীর বিরুদ্ধে একজন পুরুষের ঈর্ষান্বিত রাগ, যে তার স্ত্রীকে প্রেম বা যৌনতার জন্য ভ্রষ্ট করল। ঈশ্বর শলোমনকে স্বামীর ক্রোধ সম্পর্কে সতর্ক করে ব্যভিচারের বিরুদ্ধে প্রত্যেক পুরুষদের শিক্ষা দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন (হিতোপদেশ 6:27-35)।
বিবাহ একটি অন্তরঙ্গ ও পবিত্র সম্পর্ক আর ব্যভিচার এর একটি ভয়ঙ্কর লঙ্ঘন। ঈর্ষান্বিত ক্রোধ এবং নির্দয় প্রতিশোধ এই জঘন্য পাপের স্বাভাবিক পরিণতি। শলোমন অন্য পুরুষের স্ত্রীকে স্পর্শ করার ফলে এই স্বাভাবিক সমস্যা থেকে সমস্ত পুরুষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
তিনি এই বাক্যর শেষ পর্যায় আছেন যেখানে তিনি তার পুত্রকে ব্যভিচার সম্পর্কে একটি দীর্ঘ বানী দ্বারা সতর্ক করছেন (হিতোপদেশ 6:20-35)। এইখানে তিনি একটি ব্যবহারিক যুক্তি যোগ করেন যে নারীর স্বামী ব্যভিচারের অপরাধের জন্য ক্ষিপ্ত হবেন। শুধুমাত্র ঐশ্বরিক ন্যায়বিচার এই ভয়ঙ্কর পাপের নিন্দা করে না, কিন্তু পুরুষ-মানুষ ও প্রকৃতির ন্যায্য আইনও এর বিচার করে।
বিবাহ একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত, অন্তরঙ্গ এবং অধিকারপূর্ণ সম্পর্ক। এটির লঙ্ঘন প্রচুর ব্যথা এবং ক্ষতির কারণ হয়। এই কারণে, পবিত্র ঈশ্বর এই পাপের বিচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ব্যভিচারী স্ত্রী এবং ব্যভিচারী পুরুষ উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল (লেবীয় পুন্তক 20:10)।
বৈবাহিক ঈর্ষা পাপ নয়; এটি প্রেম এবং অধিকারের একটি অংশ। বিবাহ প্রেম এবং দখল উপর ভিত্তি করে। প্রেমে ঈর্ষাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। শলোমন তার স্ত্রী সম্পর্কে বলেছিলেন, “তুমি আমাকে মোহরের ন্যায় তোমার হৃদয়ে, মোহরের ন্যায় তোমার বাহুতে রাখ; কেননা প্রেম মৃত্যুর ন্যায় বলবান; অন্তর্জ্বালা পাতালের ন্যায় নিষ্ঠুর; তাহার শিখা অগ্নির শিখা, তাহা সদাপ্রভুরই অগ্নি।” (পরমগীত 8:6)।
ঈর্ষা একটি ভয়ঙ্কর বিষয়। এটি রাগ বা ক্রোধের চেয়েও খারাপ বিষয় (হিতোপদেশ 27:4)। একজন পুরুষ তার স্ত্রীর শরীর বা হৃদয় কখনও ভাগ করতে চাইবেন না। আর যখন অন্য একজন মানুষ এই দুটোর মধ্যে যে কোন একটি বিষয় নিয়ে নেয়, তখন ঈর্ষা হয় আক্রোশজনক। একজন চোর, পুরুষদের কাছ থেকে করুণালাভ পেতে পারে, কিন্তু ব্যভিচারী নয় (হিতোপদেশ 6:30-33)। ক্ষুধা মেটানোর জন্য চুরি করা বোধগম্য, কিন্তু অন্য পুরুষের স্ত্রীকে স্পর্শ করা অমার্জনীয়। যুবকরা, আপনারা কিন্তু এই পাপে সংলিপ্ত থাকবেন না।
ইস্রায়েলের সাথে সাথে ঈশ্বরের আইন ঈর্ষান্বিত স্বামীদের জন্যও প্রদান করা হয়েছে (গণনাপুস্তক 5:11-31)। যদি একজন পুরুষ তার স্ত্রীর প্রতি ঈর্ষান্বিত বা অবিশ্বাস বা সন্দেহ করেন, প্রমাণ সহ বা প্রমাণ ছাড়াই, তিনি তাকে ঈর্ষার পরীক্ষার জন্য পুরোহিতদের কাছে নিয়ে যেতে পারতেন। যদি সে দোষী হয়, তাহলে অভিশাপের ফলে তার যৌনাঙ্গ পচে যেত। আর যদি সে নির্দোষ হত, তাহলে সে ঐশ্বরিক উদ্ঘাটন দ্বারা মুক্তি পেয়ে যেত এবং গর্ভধারণ করত।
কিন্তু পুরুষের মত একজন মহিলার তার স্বামীর প্রতি ঈর্ষা একই নয়, তাই মোশির আইনে ঈশ্বরের একই সংরক্ষণ ছিল না। যেহেতু পুরুষ নারীর জন্য তৈরি হয়নি, যেমন নারী পুরুষের জন্য ছিল (1 করিন্থীয় 11:9), একজন স্বামী তার যৌন বিশ্বস্ততার জন্য তার স্ত্রী চেয়ে ঈশ্বরের কাছে বেশি ঋণী ছিল। ঈশ্বর স্বামীদের সাথে সরাসরি আচরণ করেন, যেমন তিনি দায়ূদ এবং ইস্রায়েলের সাথে করেছিলেন (2 শমূয়েলে 11:27; মালাখি 2:10-16)।
যদিও এটি খুব কঠিন বিষয়, ধার্মিক পুরুষরা একজন ব্যভিচারী স্ত্রী এবং তার ব্যভিচারী স্বামীকে ক্ষমা করতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা অনুতপ্ত হয়, কারণ তারা জানে যে তারা নিজেরাই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ভীষণ বড় পাপ করেছে এবং ঈশ্বর তাদেরকে ক্ষমা করেছেন (মথি 18:21-35)। অবশ্যই, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য মহান অনুগ্রহের প্রয়োজন, কারণ শলোমন একটি অত্যন্ত সত্য নিয়ম স্থাপন করেছিলেন যে ব্যভিচার প্রকৃতির বিপরীত কর্ম (হিতোপদেশ 6:27-35)।
প্রভু, ইস্রায়েলকে তাঁর স্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়ে, নিজের নাম ঈর্ষান্বিত ঘোষণা করেছিলেন এবং তিনি একজন ঈর্ষান্বিত ঈশ্বর ছিলেন (যাত্রাপুস্তক 34:14)। প্রথম আদেশটি ছিল তাকে সমস্ত হৃদয়, আত্মা এবং শক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে ভালবাসতে হবে (দ্বিতীয় বিবরণ 6:4-5)। অন্যান্য বিষয়ের প্রতি ইস্রায়েলের কোন মোহ ঈশ্বরকে ঈর্ষাতে পুড়িয়ে দেয়, কারণ তিনি ইস্রায়েলের প্রতি উনার স্নেহ ও ভালোবাসা অন্য কিছুর সাথে ভাগ করবেন না (দ্বিতীয় বিবরণ 32:16; গীতসংহিতা 78:58)।
সত্য ঈশ্বরকে না ভালোবেসে এই জগতের বিষয়গুলিকে ভালোবাসা হল আধ্যাত্মিক ব্যভিচার। এটিকে বাইবেলে প্রায়ই অন্যান্য বর্ণনার মধ্যে দিয়ে ব্যভিচার, অবৈধ যৌন সংগম এবং বেশ্যাবৃত্তি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যিহিষ্কেল 16 পড়ুন। ঈশ্বর ইস্রায়েলের সাথে ভয়ানক আচরণ করেছিলেন যখন তারা মিথ্যা দেবতা বা তাদের ধর্মীয় অনুশীলনের সাথে আপস করেছিল। প্রতিটি বিবেকবান বিশ্বাসী দ্রুত এই ধরনের আধ্যাত্মিক ব্যভিচারকে চিহ্নিত করতে এবং ঘৃণা করতে সক্ষম আছে ( দ্বিতীয় বিবরণ 12:1-4, 29-32; 2 করিন্থীয় 6:14-18)। ঈশ্বর জগতের সাথে বন্ধুত্বকে তাঁর বিরুদ্ধে আত্মিক ব্যভিচার হিসাবে গণনা করেন (যাকোবে 4:4)।
বিশ্বাসীদের জন্য, যীশু খ্রীষ্ট হলেন স্বামী, এবং তিনি আমাদের সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করেন (লুক 14:26)। অন্য সব সম্পর্ক অবশ্যই বিসর্জন দিতে হবে, যদি সেগুলি তাঁর প্রতি আপনার ভালবাসাকে আঘাত পৌছায়। এটি একদম চরম বা ভুল বিষয় নয়, কারণ এই হিতোপদেশে শলোমনের পাঠ আমাদের শিখিয়েছে যে এমনকি পুরুষদেরও বিবাহের নিকৃষ্ট সম্পর্কের জন্য এই ধরনের আবেগপূর্ণ প্রত্যাশা রয়েছে। আপনি কি ঈশ্বরকে ভালবাসছেন এবং যীশু খ্রীষ্টের জন্য যতটা নিবেদিতপ্রাণ এবং যত্ন সহকারে জীবনযাপন করা প্রয়োজন আপনি কে তেমন করছেন?