হিতোপদেশ 19:8
যে বুদ্ধি উপার্জন করে, সে আপন প্রাণকে প্রেম করে, যে বিবেচনা রক্ষা করে, সে মঙ্গল পায়।
আপনি কি নিজেকে ভালোবাসেন? অবশ্যই! তাহলে আজই নিজের জন্য সত্যিই ভালো কিছু করুন। একটি হাত ত্ত নখের প্রসাধন বা জমাট বাঁধা মিষ্টান্নর বাক্সের পরিবর্তে, যা উভয়ই অর্থ ব্যয় করায় এবং দিনে অদৃশ্য হয়ে যায়, বুদ্ধির খোঁজ করুন। এটা বিনামূল্যে এবং চিরকাল স্থায়ী হয়। আপনি যে উপলব্ধি অর্জন করেছেন তা গুছিয়ে রাখুন, কারণ এটি আপনার জীবনে ভালো সাফল্য নিয়ে আসবে। এগিয়ে যান; মূল্যবান কিছু দিয়ে নিজেকে যত্ন নিন।
আত্ম-প্রেম এবং আত্ম-সম্মানের জন্য জনপ্রিয় ক্রন্দন মানবতাবাদী মনোবিজ্ঞানের একটি মিথ্যা, শেষ দিনের বিপদজনক সময়ের প্রথম তালিকাভুক্ত লক্ষণ (2 তীমথিয় 3:1-5)। এটি বাইবেলের বিপরীত, যা জানে যে মানুষ নিজেকে যথেষ্ট ভালোবাসে এবং অন্যদেরকে ততটা ভালবাসতে শিখতে হবে এবং তাদের আরও ভালোভাবে সম্মান করতে হবে (মথি 22:39; ইফিষীয় 5:28-29; রোমীয় 12:10; ফিলিপীয় 2:3-4)। বাইবেলের আত্ম-তত্ত্ব হলো আত্মত্যাগ! জগত বলে, “আমিই প্রথম।” বাইবেল শিক্ষা দেয়, “আমি তৃতীয়।”
প্রজ্ঞা হলো স্ব-সেবামূলক, কারণ এটি আপনার নিজের জীবনে শান্তি এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। অবশ্যই, আপনার চারপাশের সকলেই আপনার অপূর্ব মনোভাব এবং উচ্চতর আচরণ দ্বারা উপকৃত হবে। কিন্তু আপনি নিজেই লেডি উইজডমের (Lady Wisdom) করুণাময় আমন্ত্রণের মহান স্বত্বভোগী (হিতোপদেশ 8:1-11; 9:1-5)। ভালো জীবন, প্রাচুর্যময় জীবন, এবং সফল জীবনই সেই প্রজ্ঞা, যার কাছে আছে সে সুখি হবে (হিতোপদেশ 16:22; 19:23)। প্রজ্ঞার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা মৃত্যুকে ভালোবাসা হয়ে উঠে (হিতোপদেশ 8:36)।
প্রজ্ঞা হলো সঠিক বিচারের শক্তি; যে কোনো পরিস্থিতিতে কি করতে হবে তার বোধশক্তি। শুধুমাত্র কয়েকজন পুরুষেরই এমন জ্ঞান আছে, কিন্তু তা সকলের কাছে অবাধে দেওয়া হয়। একজন মূর্খ এবং বুদ্ধিমান মানুষের মধ্যে পার্থক্য খুব বড়, তাই দায়ূদ তার পুত্র শলোমনকে শিখিয়েছিলেন, “প্রজ্ঞাই শ্রেষ্ঠ বিষয়, তুমি প্রজ্ঞা অর্জন কর তোমার সর্বস্ব দিয়ে উর্পাজন কর বিচক্ষণতা।” (হিতোপদেশ 4:7)।
প্রজ্ঞা কতটা মূল্যবান? রাজা শলোমনের এই বর্ণনাটি বিবেচনা করুন, যে ব্যক্তির কাছে সবকিছু ছিলো : “প্রজ্ঞা মণিমুক্তার চেয়েও মূল্যবান, তোমার ইস্পিত কোন বস্তুই তার তুল্য নয়।” (হিতোপদেশ 3:15)। এবং তিনি আরও লিখেছেন, “কেননা প্রজ্ঞা মুক্তা হইতেও উত্তম, কোনো অভীষ্ট বস্তু তাহার সমান নয়।” (হিতোপদেশ 8:11)।
আপনি কিভাবে বুদ্ধি লাভ করতে পারেন? নিজেকে বিনীত করুন এবং জীবন্ত ঈশ্বরের সামনে কাঁপতে শুরু করুন (হিতোপদেশ 1:7; 9:10; যিশাইয় 57:15; 66:1-2)। তারপরে আপনি বাইবেল এবং এটি যে কোনো বিষয় সম্পর্কে যা বলে তা বিশ্বাস করুন (হিতোপদেশ 1:4; গীতসংহিতা 19:7; 119:128, 130)। আপনি নিজেকে শেখার জন্য উৎসর্গ করুন (হিতোপদেশ 2:1-9; 18:1)। আপনি এটির জন্য যাচনা করুন (গীতসংহিতা 119:18; যাকোব 1:5)। এবং আপনি সেই শিক্ষকদের ব্যবহার করুন যাদের ঈশ্বর আপনার জীবনে রেখেছেন, পিতামাতা এবং পালক উভয়ই (হিতোপদেশ 5:1; 23:19; 29:15; যিরমিয় 3:15; 1 করিন্থীয় 2:6-13)।
আপনি কিভাবে নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করেন? আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা মনে রেখে (হিতোপদেশ 3:1; দ্বিতীয় বিবরণ 6:6-9; প্রেরিত 17:11)। আপনি সেই শিক্ষা আপনার হৃদয়ে লুকিয়ে রাখুন এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োগ করুন (ইয়োব 34:3; গীতসংহিতা 119:11; ইব্রীয় 5:14)। আপনি প্রায়ই এটির উপর ধ্যান করেন (গীতসংহিতা 1:2; 119:98-100, 148)। এবং আপনি মন্দ যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন যা ভালো আচরণকে কলুষিত করে (হিতোপদেশ 9:6; গীতসংহিতা 1:1; 1 করিন্থীয় 15:33)।
আপনি নিজের জন্য যা করতে পারেন তা হলো প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। যদি আপনি এই হিতোপদেশের শিক্ষাকে ত্যাগ করে জগতের শিক্ষার অনুযায়ী জীবন যাপন করেন তাহলে আপনার মতো মূর্খ আর কেউ নেই। বিভ্রান্ত প্রকৃতি এবং বিদ্রোহী হৃদয়ের কারণে, সমস্ত মানুষই মূর্খতার শিকার হয়। ঈশ্বরকে যাচনা করুন এবং এই হিতোপদেশটির দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বারা এখনই প্রজ্ঞাকে আলিঙ্গন করুন।